চৌঘড়িয়া মুহূর্ত: শুভ ও অশুভ সময়-জানালা

চৌঘড়িয়া হল দিন ও রাতের শুভ-অশুভ অংশ চিহ্নিত করার ক্লাসিক্যাল পদ্ধতি - প্রতিদিন আট ভাগে বিভক্ত। জানুন কোন কাজ কোন চৌঘড়িয়ায় সর্বোত্তম এবং কেনই বা।

VEVidhata Editorial Desk· Parashari Jyotish, Muhurta, KP, Lal Kitab, dasha & transit analysis
··6 min read

পর্যালোচক Vidhata Editorial Desk · আপডেট

In this article
  1. চৌঘড়িয়া কী
  2. আটটি চৌঘড়িয়া ও তাদের প্রকৃতি
  3. কীভাবে আপনার দিনের চৌঘড়িয়া গণনা করবেন
  4. কোন কাজে কোন চৌঘড়িয়া
  5. কোন সময় কী এড়াবেন
  6. রাহু কাল ও চৌঘড়িয়ার সম্পর্ক
  7. একটি ব্যবহারিক পরামর্শ

চৌঘড়িয়া কী

সংস্কৃতে "চৌ" মানে চার এবং "ঘড়ি" মানে ২৪ মিনিটের সময়-একক। তাই চৌঘড়িয়া = ৯৬ মিনিট, প্রায় ১.৫ ঘণ্টা। দিন (সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত) এবং রাত (সূর্যাস্ত থেকে পরের সূর্যোদয়) - প্রতিটি ৮টি চৌঘড়িয়ায় বিভক্ত। তাই ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৬টি চৌঘড়িয়া।

প্রতিটি চৌঘড়িয়ার একজন গ্রহাধিপতি আছেন এবং প্রতিটি ক্লাসিকভাবে শুভ, অশুভ বা মধ্যম হিসেবে চিহ্নিত। ভ্রমণ, ব্যবসা শুরু, কেনাকাটা, বা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং - সবকিছুর জন্য চৌঘড়িয়া দেখা ঐতিহ্যগত।

আটটি চৌঘড়িয়া ও তাদের প্রকৃতি

প্রতিটির অধিপতি ও ফল:

অমৃত (চন্দ্র) - সর্বোত্তম শুভ। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ, বিশেষত নতুন উদ্যোগ। দুধ, জল সংক্রান্ত কাজে শ্রেষ্ঠ।

শুভ (বৃহস্পতি) - অত্যন্ত শুভ। শিক্ষা, পূজা, বিবাহ আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির জন্য আদর্শ।

লাভ (বুধ) - শুভ, বিশেষত বাণিজ্যিক কাজ। বিনিয়োগ, কেনাকাটা, যোগাযোগ-সম্পর্কিত কাজে উত্তম।

চল (শুক্র) - মধ্যম। ভ্রমণ, যানবাহন সম্পর্কিত কাজ, পরিবর্তনের জন্য ভালো। স্থির কাজে নয়।

উদ্বেগ (সূর্য) - অশুভ। অস্থিরতা, উদ্বেগের সময়। নতুন কাজ শুরু না করাই ভালো। তবে সরকারি কাজে সূর্যের সংযোগ থাকে, তাই সেইজন্য কখনো ব্যবহৃত।

রোগ (মঙ্গল) - অশুভ। স্বাস্থ্য, সংঘাত-বিষয়ক সমস্যা। তবে শল্যচিকিৎসা বা শত্রু-পরাজয়ে মঙ্গলের শক্তি ব্যবহার্য।

কাল (শনি) - অশুভ। ক্ষতি, বিলম্ব। গুরুত্বপূর্ণ শুভ কাজ এড়িয়ে চলুন। তবে কঠোর শ্রম-নির্ভর কাজে শনি কার্যকর।

কীভাবে আপনার দিনের চৌঘড়িয়া গণনা করবেন

ধরুন আজ সূর্যোদয় ৬:০০ এবং সূর্যাস্ত ১৮:০০। দিনে মোট ১২ ঘণ্টা। প্রতিটি চৌঘড়িয়া = ১২ ÷ ৮ = ১.৫ ঘণ্টা = ৯০ মিনিট।

চৌঘড়িয়ার ক্রম দিন অনুযায়ী বদলায়:

  • রবিবার দিনে: উদ্বেগ, চল, লাভ, অমৃত, কাল, শুভ, রোগ, উদ্বেগ
  • সোমবার দিনে: অমৃত, কাল, শুভ, রোগ, উদ্বেগ, চল, লাভ, অমৃত
  • মঙ্গলবার দিনে: রোগ, উদ্বেগ, চল, লাভ, অমৃত, কাল, শুভ, রোগ
  • বুধবার দিনে: লাভ, অমৃত, কাল, শুভ, রোগ, উদ্বেগ, চল, লাভ
  • বৃহস্পতিবার দিনে: শুভ, রোগ, উদ্বেগ, চল, লাভ, অমৃত, কাল, শুভ
  • শুক্রবার দিনে: চল, লাভ, অমৃত, কাল, শুভ, রোগ, উদ্বেগ, চল
  • শনিবার দিনে: কাল, শুভ, রোগ, উদ্বেগ, চল, লাভ, অমৃত, কাল

রাতের ক্রম প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা। বিধাতার অ্যাপ আপনার শহরের সঠিক সূর্যোদয়/সূর্যাস্তের ভিত্তিতে প্রতিদিনের সঠিক চৌঘড়িয়া দেখায়।

কোন কাজে কোন চৌঘড়িয়া

ব্যবসা শুরু / নতুন উদ্যোগ: লাভ বা অমৃত গৃহপ্রবেশ / নতুন ঘরে প্রবেশ: শুভ বা অমৃত বিবাহ আলোচনা / সম্বন্ধ: শুভ কেনাকাটা (বিশেষত সোনা): লাভ ভ্রমণ শুরু: চল বা শুভ শিক্ষাগত কাজ / পরীক্ষা: শুভ মুনাফা-নির্ভর সিদ্ধান্ত: লাভ আদালত / আইনি কাজ: শুভ শল্যচিকিৎসা (অপরিহার্য হলে): রোগ (মঙ্গলের শক্তি) শত্রু পরাজয় / প্রতিযোগিতা: রোগ কঠোর শ্রম / দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প: কাল (শনির শক্তি, সাবধানতার সঙ্গে)

কোন সময় কী এড়াবেন

উদ্বেগ, রোগ, কাল - এই তিনটি চৌঘড়িয়ায় সাধারণত নতুন শুভ কাজ শুরু করবেন না। বিশেষত কাল চৌঘড়িয়ায় কোনো নতুন বিনিয়োগ, চুক্তি, বা বিবাহ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নয়।

তবে চলমান কাজ চালিয়ে যাওয়া বা দৈনন্দিন রুটিন কাজ সব চৌঘড়িয়াতেই করা যায়। চৌঘড়িয়া মূলত শুরুর সময় বাছার জন্য - কাজ একবার শুরু হলে তার নিজস্ব গতি অনুসরণ করে।

রাহু কাল ও চৌঘড়িয়ার সম্পর্ক

রাহু কাল একটি আলাদা কিন্তু সম্পর্কিত ধারণা। প্রতিদিনের একটি নির্দিষ্ট ১.৫ ঘণ্টা রাহু-শাসিত - যেকোনো শুভ কাজের জন্য পুরোপুরি এড়ানো হয়। চৌঘড়িয়া অশুভ হলেও রাহু কাল আরও তীব্র এড়াতে হবে।

বিধাতা দৈনিক রাশিফল-এ আপনার শহরের সঠিক রাহু কাল ও চৌঘড়িয়া দুটোই দেখায়। সকালে অ্যাপ খুলে দিনের পরিকল্পনা সাজানোর অভ্যাস তৈরি করুন।

একটি ব্যবহারিক পরামর্শ

প্রতিটি কাজের জন্য নিখুঁত মুহূর্ত খুঁজতে গিয়ে কাজ-ই আটকে রাখবেন না। চৌঘড়িয়া একটি সহায়ক টুল - শাসকীয় নিয়ম নয়। যদি কোনো কাজ অনিবার্য, এবং সব চৌঘড়িয়াই সাধারণ - চিন্তা না করে এগিয়ে যান। ফল কাজের গুণমান ও সততায় বেশি, সময়ের মাইক্রো-নির্বাচনে কম।

তবে যেখানে আপনার নিয়ন্ত্রণ আছে - যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর - সেখানে শুভ চৌঘড়িয়া বেছে নিলে অতিরিক্ত সমর্থন পাবেন। এটাই প্রজন্ম ধরে চলে আসা প্রজ্ঞা।

Continue reading

Related articles